চট্টগ্রামে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গতবারের তুলনায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমেছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এবারের পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৯২৯ জন পরীক্ষার্থী। গতবছর পাসের হার ছিল ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশ আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে এ ফল ঘোষণা করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী।
করোনাসহ নানান কারণে শর্ট সিলেবাসে পরীক্ষা হয়ে আসছিল গত কয়েক বছর। ২০২০ সালে নতুন সিলেবাস ঘোষণার পর এবছর প্রথম পূর্ণ সিলেবাসে পড়ে পরীক্ষা দেয় পরীক্ষার্থীরা।
বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী জানান, এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার গতবারের চেয়ে একটু কম। কিন্তু এ বছর জিপিএ-৫ অনেক কমেছে। এবার অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হয়েছে এবং অভিন্ন পদ্ধতিতে মূল্যায়ন হয়েছে। তাই মূল্যায়ন যথাযথ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এবার প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামরা ছিল। শুরুর দুয়েকটি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়ভীতি কাজ করতে পারে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা কিছুদিন বন্ধ ছিল পরীক্ষা। হয়ত পড়ার টেবিলে ফিরতে একটু সময় লেগেছে। এটাও একটা কারণ হতে পারে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এবারে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৯৬ হাজার ৩৩৫ জন। ছাত্রদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং ছাত্রীদের পাসের হার ৫৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। নগরীতে পাসের হার ৬৬ দশমিক ২০ শতাংশ, জেলায় পাসের হার ৪৫ দশমিক ৫৯শতাংশ।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির ২৮৩টি কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে রাঙামাটিতে পাসের হার ৩৩ দশমিক ২৪ শতাংশ, খাগড়াছড়িতে ২৯ দশমিক ৮৫ এবং বান্দরবানে ৪১ দশমিক ৪২ শতাংশ। কক্সবাজার জেলায় পাসের হার ৪৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার সবচেয়ে বেশি ৭৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৫৪ দশমিক ১৪ শতাংশ ও মানবিক বিভাগে পাসের হার ৩৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
গত ২ জুলাই শিক্ষা বোর্ড অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। বৈরী আবহাওয়া ও বন্যার কারণে ৮ জুলাই চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যায়। স্থগিত হওয়া পরীক্ষা ২০ অাগস্ট শুরু হয়।